এনআরসিতে নাম নেই শুনে আসামীয় মুসলিম নারীর আত্মহত্যা

২৪বিডিটাইম ডেস্ক;

গতকাল এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর গুজব ও আতঙ্কের মাঝে বিরাজ করছেন স্থানীয়রা। গুজবের ধূম্রজালে ডুবে আছে আসাম।

নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়টি নিয়ে উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে অঞ্চলটির সর্বত্র। এরই মধ্যে শোনা গেল চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় নিজের নাম নেই শুনে আত্মহত্যা করেছেন সোনিতপুর জেলার শায়েরা বেগম নামে এক ৫০ বছর বয়সী নারী।

লোকমুখে তিনি শুনেছিলেন তালিকায় তার নাম নেই। এর পর কেঁদে ফেলেন। যে দেশের মাটিতে এত বছর ধরে সংসার সাজিয়েছেন, যেখানে তার রয়েছে তার স্বামী-সন্তানরা। তাদের ফেলে কোথায় পাঠিয়ে দেয়া হবে তাকে? এমনটি ভাবতেই পারছিলেন না তিনি। এর পরই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন ওই নারী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই নারী। কুয়া থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার।

কিন্তু পরে জানা গেল যে, চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় নাম ছিল শায়েরার। তার স্বামী ও সন্তানের নামও ছিল তালিকায়।

উল্লেখ্য, শনিবার আসামের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকত্ব তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ। তালিকা থেকে বাদ পড়ায় রাজ্যটিতে ১৯ লাখ লোক রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আগামী ১২০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারলে তাদের ঠাঁই হবে শরণার্থী শিবিরে।

আর আইনি সহায়তা নিয়ে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক প্রমাণ করতে গড়ে প্রত্যেক ব্যক্তির খরচ পড়বে ৪০ হাজার ভারতীয় রুপির মতো, যা চালিয়ে নেয়ার সামর্থ্য নেই অনেকের।

সব মিলিয়ে সরকার পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হলেও কোনোমতেই শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না অসামীয়রা।

এ বিষয়ে আসামের লেখিকা সংগীতা বড়ুয়া পিশারতি বিবিসিকে বলেন, ‘যাদের নাম তালিকায় নেই, তারা এরই মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত। তার অন্যতম প্রধান কারণ ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ। অনেকেই এটা নিয়ে অভিযোগ করছেন। ফলে তাদের ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে এটি ভেবেই অনেকে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।’

জানা গেছে, শায়েরার মতো আরও অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।