কাউন্সিলর মনজু গ্রেফতার

২৪বিডিটাইম ডেস্ক;

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ময়নুল হক ওরফে মনজু গ্রেফতার হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর টিকাটুলি এলাকায় অবস্থিত ডিএসসিসির ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ময়নুল হক মনজুকে গ্রেফতার করে র্যাব। অভিযানে তার গাড়িচালক সাজ্জাদকেও গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ময়নুলের কার্যালয় ও বাসা থেকে মদ, গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, যৌনউত্তেজক সামগ্রী ও পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে মনজু গ্রেফতারের পর এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা টিকাটুলিতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন।

অভিযান শেষে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফীউল্লাহ বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, মনজুর স্ত্রী ও সন্তানরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। অবৈধভাবে আয় করা কোটি কোটি টাকা তিনি হুন্ডির মাধ্যমে স্ত্রী-সন্তানের কাছে পাঠাতেন।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এভাবে টাকা পাঠাতে পারেন কিনা- বিষয়টি আইনগতভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করবে।

তার আয়ের উৎস চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। এর বাইরে তার কার্যালয় থেকে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হবে। তিনি মাদক সেবন এবং কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত।

ক্যাসিনোবিরোধী এবং শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে মনজুকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান শাফীউল্লাহ বুলবুল। তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে মনজু ওয়ারী থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলার আসামি।

মামলাটি গতরাতে (বুধবার) করা হয়েছে। ওই মামলার সত্যতা যাচাই করে মনজুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার অফিস থেকে অস্ত্র, মাদক এবং বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওষুধ পাওয়া গেছে। অস্ত্রটি তার শরীর তল্লাশি করে পাওয়া গেছে।

মনজু দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চাঁদাবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছিলেন। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এরপরই অভিযান চালিয়ে তার কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাউন্সিলর মনজু দীর্ঘদিন ধরে টিকাটুলির ‘রাজধানী মার্কেটে’র ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছেন। তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সবাই।

রাজধানী মার্কেটের শাড়ি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, মনজু নিজেকে রাজধানী মার্কেটের অঘোষিত সভাপতি দাবি করতেন। কেউ দোকান ভাড়া নিলে, বিক্রি করলে দুই থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন তিনি।

কিছুদিন আগে এসি লাগানোর কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজই করেননি। প্রায় ৯ বছর ধরে তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা।