বিএনপির নেতা নির্বাচন হবে কাউন্সিলরদের ভোটেই

২৪বিডিটাইম ডেস্ক:

বিএনপি দল পুনর্গঠনের নতুন চ্যালেঞ্জ। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘সুপার ফাইভ’ বা ‘সুপার সেভেন’ কমিটি আর হচ্ছে না। এখন থেকে কাউন্সিলররা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করবেন।

১৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যাকে এসিড টেস্ট হিসেবে নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। ছাত্রদলের কাউন্সিলে এ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে শুরু করা গেলে পরে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলাতেও সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

এ প্রক্রিয়ায় কমিটি হলে যোগ্য ও ত্যাগীরাই শীর্ষ নেতৃত্বে আসবেন বলে মনে করেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, এর ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে, দল হবে সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত।

যদিও একটি সিন্ডিকেট কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন তথা কাউন্সিল ভণ্ডুলে মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্রদলের সম্মেলন যাতে সুষ্ঠুভাবে না হয় সেজন্য নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন ওই সিন্ডিকেটের নেতারা। হাইকমান্ডকে তারা ভুল বার্তা দিচ্ছেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সরাসরি ভোটে নেতা নির্বাচিত হলে দলে ওই সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকবে না। যারা বিভিন্ন কমিটিতে শীর্ষ পদে আসতে চান তারা আর সিন্ডিকেটের কাছে ধরনা না দিয়ে কাউন্সিলরদের মন জয়ে ব্যস্ত থাকবে।

এমন পরিস্থিতিতে দলে প্রভাব ধরে রাখতে নানাভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে সিন্ডিকেট। তবে কোনো সিন্ডিকেটের কাছে মাথা নত না করে এ চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে দলটির হাইকমান্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানায়।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত ও দলে গতি ফেরাতে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা অঙ্গ ও মূল দলের কমিটিগুলো আপডেট করছি। কাউন্সিলের মাধ্যমে এসব কমিটি করা হবে।

যাতে যোগ্য ও ত্যাগীরা নেতৃত্বে আসতে পারেন। তিনি বলেন, অতীতেও আমরা বারবার ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছি। কোথাও কোথাও করেছি। কিন্ত রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে প্রতিটি কমিটি কাউন্সিলরদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দলে এ চর্চা নেই। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র- সব জায়গায় চাপিয়ে দেয়া কমিটি দিয়েই চলছে দলটি। গত জাতীয় কাউন্সিলের আগে চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়মমাফিক নির্বাচনের আয়োজন করা হয়।

এ দুই পদে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি কমিটিগুলো করার দায়িত্ব কাউন্সিলররা চেয়ারপারসনের ওপর ন্যস্ত করেন। চেয়ারপারসন তার ক্ষমতাবলে বিএনপির কেন্দ্রীয়সহ বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলা ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতা নির্বাচন করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেয়া হয়।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, এসব কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীরা বাদ পড়েন। সুবিধাবাদীরা শীর্ষ নেতৃত্বে চলে আসে। এক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দলটির হাইকমান্ড একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পরামর্শ নেন। প্রায় সবাই সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের পক্ষে মত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।